শিরোনাম
মুহাম্মদ আমির হোছা্ইন :: | ০৭:৩২ পিএম, ২০২৬-১০-০৫
উনিশ শতকের শেষভাগে আধুনিক জায়োনিস্ট আন্দোলনের উত্থানের পর থেকেই কীভাবে একটি ইহুদিদের আন্দোলন পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছ থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন অর্জন করল ?
মুসলিম বিশ্বে জায়োনিস্ট আন্দোলনের পশ্চিমা তৎপরতাকে “গোপন ষড়যন্ত্র” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও,জায়োনিস্ট ইতিহাসে কিভাবে সফলতা লাভ করেছিল সেটা ব্যাখ্যা গবেষণা নেই।
জায়োনিস্টদের সফলতার পেছনে এর বড় একটি অংশ ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত কূটনীতি, রাজনৈতিক যোগাযোগ, lobbying, জনমত গঠন এবং অর্থসংগ্রহের কার্যক্রম। কিছু আলোচনা ও যোগাযোগ অবশ্যই গোপনীয় বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হয়েছিল- যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অস্বাভাবিক নয়।
জায়োনিস্টদের শক্তিশালী কূটনীতি:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় Chaim Weizmann এবং অন্যান্য জায়োনিস্ট নেতারা ব্রিটিশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ গড়ে তোলেন। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলগুলোর একটি ছিল ১৯১৭ সালের Balfour Declaration। ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য একটি “national home” প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানায়।
এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল বিশাল। কারণ এটি জায়োনিস্ট আন্দোলনের দাবিকে কেবল একটি অভিবাসী বা ধর্মীয় আন্দোলনের পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনায় নিয়ে আসে।
কিন্তু একই সঙ্গে ঘোষণায় ফিলিস্তিনের অ-ইহুদি জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ না করার কথাও বলা হয়েছিল। পরবর্তী ইতিহাসের একটি বড় প্রশ্ন হলো- এই দুই প্রতিশ্রুতির মধ্যে বাস্তবে কতটা সামঞ্জস্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।
পরবর্তীতে জায়োনিস্ট কূটনীতির একটি লক্ষ্য ছিল এই ব্রিটিশ অবস্থানকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা। ফলে ফিলিস্তিনে Jewish national home-এর ধারণাটি শুধু জায়োনিস্ট সংগঠনের দাবি না থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির আলোচনার অংশ করে নিয়ে আসা।
আমেরিকায় জনমত ও lobbying
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে জায়োনিস্ট সংগঠনগুলো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। মার্কিন সরকারি নথিতে দেখা যায়, ১৯৩৮–৩৯ সালে American Zionist Organization ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে ব্যাপক চিঠি ও টেলিগ্রাম প্রচারণা চালায়।
রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির জন্য শুধু ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করা হয়নি। আমেরিকান জনমতের একটি বৃহত্তর অংশের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
অর্থাৎ এটি ছিল আধুনিক রাজনৈতিক lobbying-এর একটি রূপ সরকারের নীতি পরিবর্তনের জন্য সংগঠিতভাবে জনমত ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা।
মানবিক বেদনা থেকে রাজনৈতিক দাবি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও Holocaust এই পরিস্থিতিকে আরও পরিবর্তন করে। ইউরোপে ইহুদিদের ওপর নাৎসি গণহত্যা পশ্চিমা বিশ্বের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। লাখ লাখ ইহুদি নিহত হওয়ার পর একটি নিরাপদ ইহুদি জাতীয় আবাসভূমির দাবি নতুন নৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব লাভ করে।
জায়োনিস্ট নেতারা এই বাস্তবতাকে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন। যুক্তিটি ছিল সরল, যে জনগোষ্ঠী ইউরোপে বারবার নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের নিজেদের নিরাপদ জাতীয় আবাসভূমি প্রয়োজন।
এই যুক্তির মানবিক ভিত্তি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায় এক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রকল্পের মূল্য যদি অন্য একটি জনগোষ্ঠীকে ভূমি, রাজনৈতিক অধিকার বা বাসস্থান হারানোর দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেই সমাধান কতটা ন্যায়সংগত।
পশ্চিমা শক্তির স্বার্থও ছিল
এখানে আরেকটি বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো শুধু মানবিক কারণে জায়োনিস্ট দাবিকে সমর্থন করেনি। তাদের নিজেদের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও ছিল।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে মধ্যপ্রাচ্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সুয়েজ খাল, ভারতমুখী যোগাযোগ, তেল এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত অবস্থান সবকিছুই ব্রিটিশ নীতিকে প্রভাবিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, তেল, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জায়োনিস্ট কূটনীতি যেমন ছিল, তেমনি ছিল পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ছিল।
গোপন যোগাযোগ বনাম ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
ইতিহাসের বিশ্লষণে জায়োনিস্ট নেতাদের সঙ্গে পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত ও কখনো গোপনীয় যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু গোপন কূটনৈতিক বৈঠক থাকা আর “গোপনে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করা” এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি হলে এটা সত্য যে এর মাধ্যমে গোপনীয় সূত্রেও lobbying বিদ্যামান রেখেছে।
বাস্তব রাজনৈতিক কৌশল, lobbying এবং কূটনৈতিক সাফল্যের বিশ্লেষণও আড়ালে চলে যায়।
ফিলিস্তিনিদের দৃষ্টিকোণ কোথায়?
জায়োনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাস শুধু ইহুদিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস নয়। একই ভূখণ্ডে তখন ফিলিস্তিনি আরব জনগোষ্ঠীও বসবাস করছিল। তাদের কাছে ইউরোপ থেকে ক্রমবর্ধমান ইহুদি অভিবাসন, জমি ক্রয় এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা ছিল ভবিষ্যৎ ভূমি ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
এখান থেকেই দুই জাতীয় আকাঙ্ক্ষার সংঘাত ক্রমে তীব্র হয়।
একদিকে ইহুদিদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি আরবদের নিজস্ব ভূমি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি—দুটি আকাঙ্ক্ষাই বাস্তব ছিল। কিন্তু একই ভূখণ্ডে দুটি জাতীয় প্রকল্প যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়ে।
এর মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি শুধু অস্ত্র দিয়ে তৈরি হয় না; সংগঠন, কূটনীতি, অর্থ, জনমত এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থও ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, এ সত্য প্রমাণ করেছে।
তবে,জায়োনিস্ট সফলতা ফিলিস্তিনের ইতিহাস আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যায়। পরবর্তীতে ফিলিস্তানি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা কীভাবে জায়োনিস্টরা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এখন কিভাবে ফিলিস্তিনের জনগণের স্বাধীনতা,মানবাধিকার সমুন্নত রাখা যায়, এটা আলোচনার দাবি রাখে।
লেখক: সাংবাদিক
আ.ন.ম. তাজওয়ার আলম : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি - সবাই হঠাৎ সরকারপন্থী জাতীয়তাবাদà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : তাছলিমা আক্তার লিমা ডিজিটাল স্ক্রিনের তীব্র আলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম ব্যস্ততা আর কà...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : বেলাল হোসেন মানুষ। অভিধানে মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এই দুই অক্ষরের ভেতরে লুকিয়ে আছà§...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি : দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে নতুন ...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম. মোস্তাঈন বিল্লাহ: বান্দরবানের আলীকদম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, বন ও বৈচিত্র্যময় কৃষিজ à¦...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : রবিউল আউয়াল আসে, রবিউল আউয়াল যায়। ক্যালেন্ডারের পাতায় মাসটি একসময় শেষও হয়ে যায়। কিন্তু কোথাও কোথাà...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited